খনিজ চুক্তির অংশ হিসেবে বিনিয়োগ প্রকল্প চিহ্নিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স করপোরেশন (ডিএফসি) ও ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের একটি দল মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছেন ইউক্রেনের অর্থমন্ত্রী ওলেক্সি সোবোলেভ। খবর রয়টার্স।
গত এপ্রিলে খনিজসংক্রান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করে ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্র। এর আওতায় ইউক্রেনের নতুন খনিজ প্রকল্পগুলোয় অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার পাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, বিনিময়ে ইউক্রেন পাবে বিনিয়োগ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কিয়েভের কাছে এ চুক্তি বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি ইউক্রেনের যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি ও অবকাঠামো পুনর্গঠনে মার্কিন আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা খাতে মার্কিন সমর্থন অব্যাহত রাখবে।
খনিজ প্রকল্প বিষয়ে গত শনিবার ইউক্রেনের অর্থমন্ত্রী ওলেক্সি সোবোলেভ বলেন, ‘ইউক্রেন সরকার দ্রুত চুক্তির বাস্তবায়ন এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ১৮ মাসের মধ্যে অন্তত তিনটি পাইলট বিনিয়োগ প্রকল্প চিহ্নিত করতে চায়।’
এদিন কিয়েভে আয়োজিত এক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ওলেক্সি সোবোলেভ। যেখানে আরো ছিলেন ইউক্রেনীয়, মার্কিন ও ইউরোপীয় কর্মকর্তারা।
ওলেক্সি সোবোলেভ আরো বলেন, ‘বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে মাঠ পর্যায়ে সরজমিনে পরিদর্শন হচ্ছে। বিনিয়োগ পাইপলাইন খুঁজতে আগামীকাল (রোববার) তাদের সঙ্গে আমরা অঞ্চলগুলোয় যাচ্ছি।’
রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় সামরিক সাহায্যদাতা। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে ফেরার পর পরিস্থিতি খানিকটা বদলে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের যুক্তি হলো ইউক্রেনে দেয়া সহায়তার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু পাওয়া উচিত।
চুক্তির শর্তানুযায়ী, নতুন খনিজ উত্তোলন থেকে ইউক্রেন সরকার যে রাজস্ব পাবে, তার অর্ধেক একটি যৌথ বিনিয়োগ তহবিলে যাবে। সেখান থেকে পাওয়া মুনাফা কিয়েভ ও ওয়াশিংটন ভাগাভাগি করবে।
ওলেক্সি সোবোলেভ আরো বলেন, ‘খনিজ খাত ছাড়াও বাস্তবায়ন ব্যয়বহুল ও দীর্ঘমেয়াদি এমন জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ করবে এ যৌথ তহবিল।’
প্রতিবেদন অনুসারে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত ৩৪টি খনিজের মধ্যে ২২টির ভাণ্ডার ইউক্রেন। এছাড়া দেশটিতে রয়েছে ইস্পাত শিল্পে দরকারি ফেরো অ্যালয়, নির্মাণ শিল্পে ব্যবহৃত নন-ফেরাস ধাতু, কিছু মূল্যবান ধাতু ও দুষ্প্রাপ্য খনিজ উপাদান।
উত্তেজনাকর ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দুষ্প্রাপ্য খনিজের মতো সম্পদ এখন গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পণ্যে রূপান্তর হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের ৮০ শতাংশের বেশি দুষ্প্রাপ্য খনিজ প্রক্রিয়াজাত করে চীন। প্রতিরক্ষা শিল্প, হাই-টেক যন্ত্রপাতি, বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি, সৌর ও বায়ু শক্তি সব ক্ষেত্রেই এসব খনিজপণ্য অপরিহার্য। তাই পশ্চিমা দেশগুলো অনেকটা চীনের ওপর নির্ভরশীল। ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কবিবাদের জেরে গত এপ্রিলে দুষ্প্রাপ্য খনিজ রফতানির অনুমতিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে চীন। এতে নির্ভরশীল শিল্প দ্রুতই প্রভাবিত হয়; এমনকি কিছু কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার সূত্রের বিধিনিষেধ শিথিল করে বেইজিং। তখন থেকেই দুষ্প্রাপ্য খনিজের বিকল্প উৎসের খোঁজ আগের তুলনায় জোরদার করেছে পশ্চিমা দেশগুলো।